চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ ছাত্রদলের একটি কমিটি ঘোষণার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এমন কমিটি ঘোষণার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাত ১১টায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।
জানা যায়, চুয়েট ছাত্রদলের একটি খসড়া কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন। তারা রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন এবং ক্যাম্পাসের সব ছাত্র ও ছাত্রী হল প্রদক্ষিণ করে উপাচার্য ভবন পর্যন্ত মিছিল করেন। এসময় তারা “ছাত্র রাজনীতির ঠিকানা, এই চুয়েটে হবে না”, “ছাত্রদল লাল কার্ড, ছাত্র শিবির লাল কার্ড, ছাত্র ইউনিয়ন লাল কার্ড”, “চুয়েটের মাটি, চুয়েটিয়ানদের ঘাটি” ইত্যাদি স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, “চুয়েট একটি রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাস। অতীতে ছাত্র রাজনীতির নামে অনেক সহপাঠী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না সেই অন্ধকার দিনগুলো আবার ফিরে আসুক। ছাত্রদল হোক বা ছাত্র শিবির কিংবা ছাত্র ইউনিয়ন কোনো রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনকে চুয়েটে সক্রিয় হতে দেওয়া যাবে না।”
তারা আরো জানান, ২০২৩ সালের জুলাই মাসের গণআন্দোলনে আবু সাঈদ ও মুগ্ধরা জীবন দিয়েছেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে। তাদের সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় শিক্ষার্থীরা একবদ্ধ।
এসময় বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যাদের নাম এই রাজনৈতিক কমিটিতে থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন তারা।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির জানান, চুয়েট ছাত্রদলের যেই কমিটি প্রকাশ হয়েছিল, সেটি ছিল একটি খসড়া কমিটি এবং সেটি ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগামীকাল নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, চুয়েট প্রশাসনের নীতিমালার আওতায় ২০২3 সালের আগস্টে সিন্ডিকেটের ১৩৬তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল রাজনৈতিক সংগঠন ও কার্যক্রমে জড়িত থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূর্বেই জানিয়ে রেখেছে।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের দিক থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের দাবি চুয়েটকে রাজনীতি মুক্ত রাখতেই হবে, আর সেজন্য প্রয়োজনে তারা দীর্ঘ আন্দোলনেও যেতে প্রস্তুত।


