জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম পরলোকে পাড়ি জমিয়েছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তাঁর এই প্রয়াণ শিল্প- সাহিত্য এবং সংস্কৃতির জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সাথে আমার পরিচয় হয় ২০১২ সালের দিকে। আড্ডা- আলোচনা জমে উঠতেই জানিয়েছিলাম ১৯৯৯ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে আমার তোলা যে ছবিটা প্রথম পাতায় লিড হয়- বন্যাদুর্গত এলাকায় কুড়িয়ে পাওয়া বোমায় হাত হারানো ১০ বছরের শিশুকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায় তৎকালীন একজন মন্ত্রীকে হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগে। শিশুটি এতটাই ছোট যে তাঁকে হ্যান্ডকাপ পরাতে হয় পায়ে। সারাদেশে ছবিটি নিয়ে আলোড়ন ওঠে। ২/৩ দিন পরেই মঞ্জু ভাই মতামত পাতায় বড় একটা লেখা দেন, আমার সাহসের তারিফ করেন সেই লেখায়। আড্ডায় যখন এটা আমি বলি তিনি উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে নেন।
এরপর বিভিন্ন সময়ে আড্ডা- আলোচনায় কবিতা, সাহিত্য, চিত্রকলা, চলচ্চিত্র নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলে। আমার টেলিভিশন সাংবাদিকতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে উৎসাহ দেন তিনি। আমাদের আড্ডার অন্যতম প্রাণ কবি মাহবুবুল হক শাকিল ২০১৬ সালে ,এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক নাসির উদ্দিন দিলু মারা যান ২০২০ সালে। আমাদের আড্ডার মধ্যমণি, আমাদের উৎসাহদাতা- শিক্ষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বিদায় নিলেন এমন একটা সময় যখন একটা দেশ একটা জাতির চরম দুঃসময়। আশার আলো দেখানোর প্রদীপগুলোও একে একে যেন নিভে যাচ্ছে।
বিদায় মঞ্জু ভাই- পরলোকে ভাল থাকবেন, যদি সত্যিই দেখা হয় কবি মাহবুবুল হক শাকিলের সাথে তাঁকেও জানাবেন আমাদের আপনজনদের সংখ্যা কমতে কমতে শুন্যের কোঠায়।
লেখক: কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র পরিচালক


