বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে, তিনি নিজে বা তার পরিবারের কোন সদস্য আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নাও থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতেই অবস্থান করছেন তিনি। সেখান থেকে রয়টার্সকে ২৯ অক্টোবর বুধবারে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটা জানান। ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এটিই শেখ হাসিনার প্রথম ও একমাত্র আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার। শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন,এটা শুধু আমি বা আমার পরিবারের ব্যাপার নয়। বাংলাদেশ যে ভবিষ্যৎ চায় তা অর্জন করতে হলে সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই হবে। কোনো একক ব্যক্তি বা পরিবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। তবে তার এই বক্তব্য তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের আগের মন্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন।
ওয়াশিংটনে বসবাসরত সজীব ওয়াজেদ গত বছর রয়টার্সকে বলেছিলেন, অনুরোধ আসলে তিনি আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। শেখ হাসিনা রয়টার্সকে আরও জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত কোনো সরকারের অধীনে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং আপাতত ভারতে থাকার পরিকল্পনা নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে তার দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম দেশে নিষিদ্ধের প্রশ্নে ই-মেইলে রয়টার্সকে দেওয়া জবাবে শেখ হাসিনা বলেন,’আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা কেবল অন্যায়ই নয় এটি আত্মঘাতীও বটে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন,আমি দেশে ফিরতে চাই তবে শর্ত একটাই সেখানে বৈধ সরকার থাকতে হবে সংবিধান অটুট থাকতে হবে এবং প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
উল্লেখ্য,জুলাই অভ্যুত্থানে সহিংস দমন-পীড়ন ও আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান রয়েছে। এর আগে সকল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রকাশ বা প্রচার নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


