ভোলা সদর উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে নারীদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বিছানা পাতার হোগলা রশি তৈরির কাজ। ঘরের কাজের ফাঁকে বসেই এই রশি বানিয়ে শতশত নারী প্রতিদিন আয় করছেন নিজ হাতে। শুধু স্থানীয় বাজারেই নয় এই হোগলা রশি বাংলাদেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় এবং প্রতিবছর এই রশি রপ্তানি থেকে আসে কোটি কোটি টাকার রেমিট্যান্স। যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তথ্য অনুযায়ী, নদীভাঙন প্রবণ ও নদী তীরবর্তী এলাকায় বিপুল পরিমাণ হোগলা পাতা জন্মে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট দল ও ব্যবসায়ীরা পাতাগুলো সংগ্রহ করে গ্রামে গ্রামে নারীদের ঘরে পৌঁছে দেন। নারীরা হাতে তৈরি করে বানিয়ে দেন রশি। প্রতি ১০০ হাত রশি ১০ টাকা দামে পাইকাররা কিনে নেন। সপ্তাহে একবার মেপে নগদ টাকা পরিশোধ করা হয়।
ভোলার চরসামাইয়া এলাকার শাহিদা আক্তার জানান,আগে অবসর সময় নষ্ট হয়ে যেত। এখন সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে রশি বানাই। মাস শেষে ভালো আয় হয়। ছেলেমেয়ের পড়ালেখা, সংসারের খরচ অনেকটা হালকা হয়ে গেছে।
রশি সংগ্রহকারী ব্যবসায়ী হাবিব নবাব বলেন, বিদেশে এই হোগলা রশির চাহিদা অনেক বেশি। বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র, বিশেষ করে নকশা করা নেট ফার্নিচার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলে ইউরোপসহ বহু দেশে রপ্তানি হয়। এ কারণে আমরা দেশেও সরাসরি টাকা পাই, আবার দেশের জন্য রেমিট্যান্সও আসে।
স্থানীয় নারী রুপা জানান যদি ১০০ হাত রশির দাম আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া যেত, তাহলে নারী উদ্যোক্তাদের আয় আরও বাড়তো।
ভোলার গ্রামীণ নারীদের এ উদ্যোগ তাই শুধু স্বাবলম্বী হওয়ার পথই তৈরি করছে না বরং দেশের অর্থনীতির রেমিট্যান্স আয়ের ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে নিভৃতে, স্বল্প বিনিয়োগে, নিঃশব্দে।


