সর্বশেষ

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার একটি পরিকল্পিত চরিত্রহননের অংশ : মির্জা ফখরুল

ডিসিবি নিউজ ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহননের দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের দলের যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চরিত্রহননের জঘন্য প্রয়াস।”

তিনি জানান, সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও যাদের নাম এফআইআরে এসেছে, তাদের আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিএনপি ও তারেক রহমানকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো ক্যাম্পেইন প্রমাণ করে, এই প্রচার-প্রচারণা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব প্রশ্ন তোলেন, “এই হত্যাকাণ্ড কি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ? মিটফোর্ডের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় দিবালোকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও কোনো বাধা না আসা, ভিডিও ধারণ এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা জনমনে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনা ও এর প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট মহলের প্রতিক্রিয়া সরকারের উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ঘাটতির প্রতিচ্ছবি। দেশে একদিকে সুস্থ ধারার রাজনীতির যে আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার এই দুই বিপরীত চিত্র আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলছি কোনো অপরাধীর পক্ষ নিচ্ছি না। বরং আইনসঙ্গতভাবেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিএনপি এবং তার নেতৃত্বকে অভিযুক্ত করাটা অত্যন্ত অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক।”

তিনি বলেন, “নিহত সোহাগের পরিচয় যা-ই হোক, তিনি একজন নাগরিক। তার হত্যার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা জোরালোভাবে চাই। আমরা তার পরিবারের পাশে আছি এবং আইনি সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ আমরা লক্ষ্য করছি একটি বিকারগ্রস্ত গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করছে। তাদের মুখ দিয়ে অশ্লীল স্লোগান তুলে দিয়ে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটানো হচ্ছে। এটি শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে নয়, গোটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত আক্রমণ।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির বিরুদ্ধে এই কুৎসা, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন তৈরি করার প্রয়াস দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র। এই অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক শক্তির সম্মিলিত প্রয়াসে প্রতিহত করা হবে।”

বিএনপি মহাসচিব আহ্বান জানান, “জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভক্তি নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যই হোক আমাদের অঙ্গীকার। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা হতে পারবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা