সর্বশেষ

৫ মেডিকেল কলেজে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন

ডিসিভি নিউজ ডেস্ক:

দেশে অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনা ও পোড়া রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ আগুনে দগ্ধ হন এবং প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মানুষ প্রাণ হারান। অথচ বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধার অভাবে পোড়া রোগীরা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হলেও তা বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় অপ্রতুল।

এ প্রেক্ষাপটে সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভবনে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তবে করোনা মহামারি ও প্রশাসনিক জটিলতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। সৌদি উন্নয়ন তহবিলের সঙ্গে ঋণ চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।

ফলে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় ৪৫৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা—যা আগের চেয়ে প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি। নতুন প্রস্তাবে সরকারি তহবিলের অংশ ২০২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৪৬৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হবে ৩৫১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

প্রকল্পের মেয়াদও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনায় সময় ছিল ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ সাড়ে তিন বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন সময় লাগবে সাড়ে ছয় বছর।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত হাসপাতালগুলোতে পোড়া রোগীর চাপ যথেষ্ট বেশি। শুধু ২০২০-২০২৪ সালের মধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ৫,৪১৮ জন, রাজশাহীতে ৫,৪০৩ জন, ফরিদপুরে ৮,৭০০ জন, রংপুরে ২,৮৮৮ জন এবং বরিশালে ৯৫৮ জন পোড়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে বিদ্যমান ১০ তলা হাসপাতাল ভবনের ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলা সংস্কার করা হবে, আর বাকি চার মেডিকেল কলেজে নতুন করে চারতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। আইসিইউ, এইচডিইউ, ডেডিকেটেড অপারেশন থিয়েটারসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে এসব ইউনিটে।

একনেক বৈঠকে উপস্থাপিত কার্যপত্রে কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. কাউয়ুম আরা বেগম মন্তব্য করেছেন, বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট স্থাপন হলে প্রায় ৬ কোটি মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। ঢাকার ওপর চাপ কমবে এবং বিদেশে চিকিৎসার প্রবণতাও হ্রাস পাবে।

প্রকল্পটি আগামী রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিতব্য একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা