‘খবরদার করে বলে দিচ্ছি। চট্টগ্রাম জুড়ে অনেক কিছু শুনতে পাচ্ছি। আমার বা আমাদের দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি কোনও চাঁদাবাজি করতে চায়, তার রেহাই হবে না।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের ফটোকার্ডের এ হুঁশিয়ারি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ, সরব-নীরব, ছোট অঙ্ক – বড় অঙ্কের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষের কাছে সরকারি দলের সংসদ সদস্যের এ হুঁশিয়ারি যেন তাদের হৃদয়ের আর্তিরই প্রতিধ্বনি। তাঁদের ধারণা চাঁদাবাজি বন্ধ হলে নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবহন ভাড়া কমবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে। জনমনে স্বস্তি ফিরবে। তারা সেই ফটোকার্ডের স্ট্যাটাস শেয়ার করে, ডাউনলোড করে নিজের ওয়ালে পোস্ট দিয়ে, ইনবক্সে বন্ধুদের পাঠিয়ে রীতিমতো ভাইরাল করে দিচ্ছেন।
পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক সাঈদ আল নোমানের আরেকটি পরিচয় তিনি, কিংবদন্তিতুল্য বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে। পাশাপাশি দেশের অন্যতম সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের প্রতিষ্ঠাতা। সব মিলে চট্টগ্রামজুড়ে তাঁর দলীয় নেতা-কর্মী, ভক্ত, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা ছড়িয়ে আছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৯১৯ ভোট। হোসাইন দীপু সাঈদ আল নোমানের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করেছেন- এ বক্তব্যকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে রূপ দিতে হবে। প্রতিটি এলাকায় সামাজিক ক্যাম্পেইন করতে হবে। প্রয়োজনে একটি হটলাইন চালু করে শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে এমপি সাহেবের নির্দেশনায় লিফলেট বিতরণ করা যেতে পারে। জুমার খুৎবায় ইমাম সাহেবের মাধ্যমে এমপি সাহেবের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছানো যেতে পারে।
গোলাম সুবহান সুজন লিখেছেন, প্রতিটা এলাকায় গিয়ে যারা খেটে খাওয়া মানুষ ভ্যানগাড়ির সবজি বিক্রেতা বা ছোটখাটো দোকানির কাছ থেকে গিয়ে প্রতিনিধির মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে কিনা। তা ছাড়া বাজারে যে অসাধু সিন্ডিকেট তাদের তৎপরতা পর্যবক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত মতামত, আশা করি ভাইয়া ইনশাআল্লাহ নোমান আংকেলের মতন সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকবেন।
চাঁদাবাজির বিষয়ে খবরদারি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাঈদ আল নোমান গণমাধ্যম কে বলেন, যেখানেই অভিযোগ উঠবে, সেখানেই তৎক্ষণাৎ দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণ আমাদের পেজে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোলাখুলি আলোচনা করে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করছেন এবং আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে সরাসরি জানাচ্ছেন। এই সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে আশা করা যায়, অচিরেই চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির মতো অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।


