কারাগারে বন্দি অবস্থায় থেকেও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে তার এই আহ্বান পৌঁছে দেওয়া হয় জনগণের কাছে।
ইমরান খান বলেন, বর্তমান শেহবাজ শরিফ সরকার সংসদে সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দেশের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। তিনি বলেন, “একটি ভুয়া সংসদের মাধ্যমে এই সংশোধনী পাসের চেষ্টার বদলে বরং সরাসরি রাজতন্ত্র ঘোষণা করাই ভালো। কারণ দেশে এখন যে শাসন চলছে, তা একনায়কতন্ত্র।”
তিনি আরও জানান, আশুরার পর দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে রাজপথে নামতে হবে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও জনগণকে ‘দাসত্বের শৃঙ্খল’ ছিন্ন করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিরোধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইমরান খান বলেন, “বর্তমান সরকারের দাসত্ব মেনে নেওয়ার চাইতে আমি কারাগারের অন্ধকারেই থাকতে রাজি। তারা আমার কণ্ঠরোধ করতে চাইলেও আমি নিরব হবো না। এক মাফিয়া গোষ্ঠী পুরো জাতিকে দাস করে রাখতে চায়, আমি তা মেনে নেব না।”
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কঠোর সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, “যখন এক স্বৈরশাসক ক্ষমতায় আসে, তখন জনগণের ভোটের প্রয়োজন পড়ে না। তখন শাসন চলে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে।” তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের পরিবর্তে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রমাণ করেছেন দেশের প্রকৃত ক্ষমতা কোথায়।
পিটিআই নেতারা জানিয়েছেন, আশুরার পর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হবে, তবে সরকার বাঁধা দিলে তার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতিও থাকবে। ইমরান খানের এই ঘোষণার পর পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


