চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও ভুয়া তথ্য দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। কখনো মাদকসহ আটকের মিথ্যা অভিযোগ, আবার কখনো শিক্ষাবৃত্তির টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চুয়েট কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগীদের একজন চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ রাকিবুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বাবার কাছে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দাবি করে রাকিবকে আড়াই শ ইয়াবাসহ চুয়েট গেট থেকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁকে ছাড়াতে আড়াই লাখ টাকা প্রয়োজন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য প্রতারক চক্রটি রাকিবের কণ্ঠ নকল করে একজনকে দিয়ে বাবার সঙ্গে কথাও বলায়। এতে তাঁর পরিবার চরম উদ্বেগে পড়ে যায়।
রাকিব বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাঁর বাবা সময় চাইলে প্রতারকেরা কল কেটে দেয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি নিশ্চিত করেন যে আটক ও মাদকের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
একই বিভাগের একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মোঃ তানভীর ইসলামের পরিবারও প্রতারণার শিকার হয়েছে। তানভীর জানান, তাঁর মায়ের কাছে ফোন করে জানানো হয় যে তিনি ৩০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন। টাকা পাঠানোর অজুহাতে প্রতারকেরা তাঁর মায়ের ডেবিট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তানভীরের অভিযোগ, প্রতারকেরা তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে জানায়, যার ফলে তাঁর মা বিষয়টি বিশ্বাস করতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে গতকাল সোমবার চুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির একটি সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে অজ্ঞাত প্রতারক চক্র শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করছে। বৃত্তির টাকা স্থানান্তরের কথা বলে ব্যাংক হিসাব ও ডেবিট কার্ড সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও সরাসরি টাকা দাবি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের ফোনকল বা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক কোনো যোগাযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


