সর্বশেষ

বোয়ালখালীতে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, স্কুলের এ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে হ-য-ব-র-ল 

কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনার এ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে সৈয়দ আকতারুল আলম ছোটন নামের এক সভাপতি প্রার্থী বোয়ালখালী উপজেলার আকুবদন্ডী ওয়রেছ মোহছেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

তিনি অভিযোগ জানান, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকল বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের তোড়জোর শুরু হলে বোয়ালখালীর বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনজন করে সভাপতির নাম প্রস্তাব করে পাঠান। তার মধ্যে ১০ নভেম্বর আকুবদন্ডী ওয়ারেছ মোহছেনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এম শহিদুল আলম,হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ রবিউল হোসেনের নাম প্রস্তাব করে পাঠান প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান। তিনজনের নাম আওয়ামীলীগ পরিবার থেকে প্রস্তাব করায় বিপত্তি দেখা দেয়। আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের নাম প্রস্তাবের বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিটি স্থগীত করা হয়। পরে এ কমিটি বাতিল করে আবার সর্বোসম্মতিক্রমে ৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রী খিসাকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়। ৪ ফেব্রæয়ারী আবার কাউকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান হাওলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রার্থী মো.মোসলেম মিয়াকে ১নং সভাপতি করে প্রস্তাব পাঠন।

ছোটন আরো অভিযোগ করে বলেন,হাওলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রার্থীকে আকুবদন্ডী ওয়ারেছ মোহছেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি করে গোপনে প্রস্তাব করে পাঠান এবং তার সাথে আওয়ামী ঘারানার আরো দু’জনের নাম পাঠানো হলে ইউএনও তা অনুমোদন দেন। এছাড়া মো. মোসলেম মিয়া হাওলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাকে সভাপতি করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর ১৭ডিসেম্বর লিখিত আবেদন করেন। এ অনিয়মের বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসি ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান বলেন, বর্তমানে শিক্ষকতা একটা অভিশাপ। মূলত উপজেলা বিএনপি বিবাদ দুই গ্রুপের চাপের মুখে তিনি এসব নাম প্রস্তাব করতে বাধ্য হন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রী খিসা বলেন,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতিদের নাম প্রস্তাবনা করে পাঠালে তিনি তা অনুমোদন করে দেন। এ বিষয়ে তার কোন দায় নেই জানিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা