যুব প্রজন্মকে রক্ষায় নিকোটিন পাউচ উৎপাদন বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।নিকোটিন পাউচ’ হলো তামাক কোম্পানিগুলোর নতুন নেশার ফাঁদ। তারা একে ধূমপানের বিকল্প হিসেবে প্রচার করছে, অথচ বাস্তবে এটি মুখে রেখে ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত নেশা সৃষ্টি করে এবং তরুণ ও যুব সমাজকে সহজেই আকৃষ্ট করে। গবেষণায় প্রমাণিত, নিকোটিন পাউচ মুখ, মাড়ি, ফুসফুস, লিভার ও কিডনির ক্ষতি করে; হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় এবং কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর আসক্তিকর ও ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতার পর নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ ৩৪টি দেশ ইতোমধ্যেই এ পণ্য নিষিদ্ধ করেছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘নিকোটিন পাউচ’ উৎপাদনের অনুমোদন বাতিলের দাবিতে তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহ ও সুশীল সমাজ ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। একইসাথে, আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউণ্ডেশন (EDF) তার বিভিন্ন কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিকোটিন পাউচ কারখানার অনুমোদন বাতিলের দাবিতে সচেতনতা ও প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা) কর্তৃক এই ক্ষতিকর ‘নিকোটিন পাউচ’ কারখানার অনুমোদন দেওয়া শুধু হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী নয়, বরং সরকারের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিরও সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০১৬ সালের ১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে দেশে নতুন কোনো তামাক কোম্পানি বা কারখানার অনুমোদন দেওয়া যাবে না; বরং বিদ্যমান কোম্পানিগুলোকে অন্য শিল্পে রূপান্তর করতে হবে। বেজার এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক দায়িত্বের লঙ্ঘন এবং আদালতের নির্দেশনার অবমাননা।
সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে কাজের অঙ্গীকার করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনেও স্পষ্টভাবে নিকোটিনজাত পণ্য নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং বেজার এই অনুমোদন শুধু আইনি নয়, নৈতিকভাবেও অগ্রহণযোগ্য।
আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউণ্ডেশনের প্রধান নির্বাহী বলেন, “নিকোটিন পাউচ ধূমপানের বিকল্প নয়, বরং আরেকটি আসক্তিকর নেশা। একটি নেশা থেকে মুক্তি দিতে গিয়ে আরেক নেশায় ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকার যেখানে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, সেখানে বেজা ও বিডা দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।”যুব সমাজকে নেশার নতুন ফাঁদে ফেলার এই তামাক কোম্পানির চক্রান্ত বন্ধে, অবিলম্বে ‘নিকোটিন পাউচ’ কারখানার অবৈধ অনুমোদন বাতিল করা হোক।


