সর্বশেষ

বাঁশখালীতে মাদক কারবারি ‘রইশ্যা ডাকাত’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

সন্ধ্যা নামলেই চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের বলিপাড়া ও পূর্ব কাহারঘোনা এলাকায় বেড়ে যায় মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় প্রকাশ্য দিবালোকে মাদকের বেচাকেনা চলে। মাদকের সহজলভ্যতায় কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়াবহ আসক্তিতে। ফলে পুরো এলাকা ধীরে ধীরে মাদকের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী।

এ অবস্থার জন্য রশিদ আহমদ ওরফে ‘রইশ্যা ডাকাত’ নামে এক ব্যক্তিকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চুরি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ অনুযায়ী, রশিদ আহমদ উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সরল ইউনিয়নের পূর্ব কাহারঘোনায় ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি সেখানে বসে একটি শক্তিশালী ইয়াবা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশেষ করে তরুণদের মাদকের দিকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যা পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি একটি সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক এবং তার বসতঘর থেকেই মাদক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অতীতে এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তিনি কারাভোগও করেছেন।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পূর্ব কাহারঘোনা এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে এরপরও তার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। এলাকায় খুব সহজেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। তরুণরা বিপথে যাচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।’ এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে পূর্ব কাহারঘোনা এলাকাকে মাদকের প্রভাব থেকে রক্ষা করা জরুরি।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা