চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফটিকছড়িগামী র্যালি হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আরিয়ান নামে এক যুবক মাদ্রাসার দিকে আঙুল তুলে ‘অশোভন অঙ্গভঙ্গি’ করেন। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যা সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ভয়াবহ রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে ২০-৩০ জনও আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় মসজিদ ও মাদ্রাসার সামনে উচ্চ শব্দে ডিজে গান বাজানো ও অশ্লীল নাচ-গানের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় মাজারপন্থী অংশগ্রহণকারীরা উসকানিমূলক মন্তব্য করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, জুলুসের গাড়ি চট্টগ্রাম শহরমুখী হওয়ার সময় গাড়িতে পানি ছোড়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে উত্তেজিত করে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শুরুতে ঘটনাস্থলে গেলেও পরে তাদের আর দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন রাত ১০টা থেকে পরদিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এতে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, মসজিদ ও মাদ্রাসা অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত আরিয়ান ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ না দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকতে হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


