শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, তরুণদের মধ্যে মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল পাঠ্যপুস্তককেন্দ্রিক না রেখে গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতি গঠনে শিক্ষা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আবরার বলেন, শিক্ষা তরুণদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তিনি বলেন, সামাজিক, গণতান্ত্রিক ও জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুবসমাজের অংশগ্রহণ যেন কেবল প্রতীকী না হয়, বরং তা হতে হবে বাস্তব ও কার্যকর। “তরুণদের সক্রিয় মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়,” যোগ করেন তিনি।
সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের কারণে কাউকে অপমান করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ ধরনের একমাত্রিক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এছাড়া জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সকল জাতীয় কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী প্রশাসনিক সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ড. আবরার বলেন, নাগরিক অধিকার যখন হুমকির মুখে পড়েছিল, তখন তরুণরাই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে। তিনি কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, জাতীয় সংসদসহ সকল রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যুব প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে একটি বিস্তৃত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব রেহানা পারভেন।


