সর্বশেষ

ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য মানদণ্ড স্থাপনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের

ডিসিভি নিউজ ডেস্ক:

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এমনভাবে আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যাতে এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সকল নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নির্বাচন-পূর্ব সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন। সভায় জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই নির্বাচন একটি বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনটি এমনভাবে সম্পন্ন করা, যাতে এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জনে পরিণত হয়।”

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের ত্রুটি বা শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। ধাপে ধাপে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত পরীক্ষার দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় জানানো হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সারাদেশে বর্ধিত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হবে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বডি-ওয়্যার ক্যামেরা, সিসিটিভি ও ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে এবং সকল বাহিনীর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশি-বিদেশি বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক এবারের নির্বাচন ঘিরে গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন। “তারা এই প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তাই আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে,” বলেন তিনি।

বর্তমান প্রস্তুতি ও প্রার্থীদের ইতিবাচক মনোভাবের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সভায় নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানান, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ২৬টি দেশের পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৩০০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৫৬ জন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন।

ইসি সচিব আরও জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে নির্বাচন শুরুর দিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অনুমতি থাকবে। তবে সাইবারস্পেসে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, বিশেষ করে ব্যালট গণনায় অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে।

সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের সমন্বয় সভা সাপ্তাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনে আরও ঘন ঘন আয়োজন করা হবে।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা