আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৮০০ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আড়াই হাজার মানুষ। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলার বহু গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাদের পুরো গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। বৃদ্ধ, তরুণ কেউ বাদ নেই। এখানে আমাদের সাহায্য করার মতো কেউ নেই।”
ওয়ার্ল্ড ভিশন আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচালক থামিন্ড্রি ডি সিলভা জানান, মাজার উপত্যকা অঞ্চলকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি গ্রাম পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এটি আফগানিস্তানের অন্যতম দুর্গম ও দরিদ্র অঞ্চল। এখানে অবকাঠামো বলতে কিছু নেই রাস্তা নেই, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কাঁচা মাটি দিয়ে তৈরি ঘরবাড়ি হওয়ায় ভূমিকম্পে সহজেই ধ্বসে পড়েছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই পরিস্থিতিতে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। যত দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো যাবে, তত বেশি প্রাণ রক্ষা সম্ভব হবে।”
জাতিসংঘ আফগানিস্তান অফিস জানিয়েছে, তাদের টিম ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ প্রাণহানিতে তারা গভীরভাবে শোকাহত।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এক বার্তায় শোক প্রকাশ করে বলেন, “আজকের ভয়াবহ ভূমিকম্পে আক্রান্ত আফগান জনগণের সঙ্গে আমি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
উদ্ধারকাজে দুর্গমতা ও প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


