চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ নভেম্বর ২০২৫) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বায়েজিদ পুর্ব মসজিদ (চালিতাতলী) এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিতে এরশাদ উল্লাহর ও তার সাথে গণসংযোগে অংশগ্রহণকারী সরোয়ার বাবলা (৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এরশাদ উল্লাহ বিকেলে চালিতাতলী এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় একদল মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্ত হঠাৎ এসে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এরশাদ উল্লাহকে দ্রুত চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হসপিটালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে দুই স্থানে গুলি লেগেছে, তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত আছেন। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সরোয়ার বাবলা নামে স্থানীয় বিএনপি কর্মী। আহত আরও কয়েকজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত ও হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।” চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। হামলার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা পূর্ব বিরোধ উভয় দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা। নির্বাচনের আগে ভয়ভীতি তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। সরকারবিরোধী নেতাদের টার্গেট করে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে।”
হামলার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, মানুষজন দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন হামলা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। তারা মনে করছেন, নির্বাচনী সহিংসতা রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে, যাতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে।


