বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংসদ হলো ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ (ঢাকসাস)।
দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। সর্বশেষ ঢাকা কলেজে নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এর পর ৩২ বছর পার হলেও আর কোনো নির্বাচন হয়নি। সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৮-ই সেপ্টেম্বর ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ কলেজ ছাত্র আন্দোলন, সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে সেই অতীতের গৌরব অনেকটাই হারাতে বসেছে। ১৯৩২-৩৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা কলেজে প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন গঠিত হয়েছিল। এর পর মোট ২৪ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে ৩ দশকের বেশি সময় ধরেও নির্বাচনহীন অবস্থায় রয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী সংসদ। ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদ বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীন ছাত্র সংসদ। পরে আমরা জানি না কী কারণে ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না। এ কারণে যারা আমরা শিক্ষার্থীরা অধিকার থেকে পিছিয়ে আছি। একটি কলেজের ছাত্র সংসদ সাধারণত সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে, তাদের সব চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কথা বলেন কিন্তু আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিগত প্রায় ৩১ বছর পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না কাজেই আমরা অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ছাত্রদের মতামত নেওয়া জায়গাটাই হচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এর মধ্যে প্রতিনিধি তৈরি হয় এবং এই প্রতিনিধিরা ছাত্রদের কথা বলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু হলে শিক্ষার্থীরা নতুন নেতৃত্বর সুযোগ পাবে এবং গণতান্ত্রিকচর্চার ঐতিহ্য ফিরে আসবে। ছাত্র প্রতিনিধির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যা, পরিবহন সমস্যা, খাওয়ার মান উন্নত ছাত্রদের একটা পরিবেশ নিশ্চিত হবে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা দেশের তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসেও শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আর নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাবে নতুন নেতৃত্ব গঠনের।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ছাত্র সংসদ কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, গত প্রায় তিন দশক ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না ঢাকসাস নির্বাচন। যার কারণে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক বিকাশের মাধ্যমে গড়ে উঠছে না নেতৃত্ব। ২০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর এ বৃহৎ ক্যাম্পাস নেতৃত্বহীন পড়ে আছে। যার ফলে, কলেজের সংস্কার কার্যক্রমও আশানুরূপ হচ্ছে না। এছাড়া ক্যাম্পাসের বহুল পরিমাণে সংস্কার দরকার যেগুলো হচ্ছে না। তার মধ্যে অন্যতম ক্যাম্পাসের জলাবদ্ধতা। বর্ষাকাল এলেই ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।বর্ষাকালজুড়ে এ অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজমান থাকে। এছাড়াও রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলগুলোর দুরবস্থা এবং সিট সংকটের বিষয়। ২০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষার্থী মিলিয়ে ৮টি আবাসিক হলে মোট সিট বা আসন সংখ্যা ১৬০৮টি। তবে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় এই সিট সংখ্যা খুবই অপ্রতুল, যার ফলে মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ৮ শতাংশের মতো আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। আমাদের পরিবহন সংকটও রয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীদের বাসে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। অনেকেই আবার জানালার পাশে ঝুলে থাকে। এ রকম বহু সমস্যার মধ্যে আছে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এখন তারা মনে করেন, ঢাকসাস নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ছাত্র সংসদের নেতাদের মাধ্যমেই কলেজের এ সংস্কার গুলো আদায় করা সম্ভব। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ-দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদ (ঢাকসাস) নির্বাচনের তফসিল


