সর্বশেষ

প্রবাসীদের আস্থায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এল ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার

নিউজ ডেস্ক : সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স আয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থবছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকারও বেশি (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর আগে কোনো অর্থবছরে এত পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছিল ২১.৬১ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এবারের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে একাংশ প্রবাসী রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখলেও, “জুলাই বিপ্লব” পরবর্তী সময়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রবাসীদের আস্থা বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “২০২০-২১ অর্থবছরে করোনাকালীন সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙেছে। ডলারের দর বাড়া, হুন্ডির প্রভাব কমে যাওয়া এবং সরকারের প্রণোদনামূলক নীতিমালার কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহ পেয়েছে প্রবাসীরা।”

করোনাকালে চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরার সময় অনেক প্রবাসী তাদের পাওনা ও ইন্সুরেন্স অর্থ নিয়ে দেশে ফেরেন, যার প্রভাব পড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের রেমিট্যান্সে। তবে এবারের প্রবাহ একেবারেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতে এই রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটা সরকারের প্রতি প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলনও বটে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ (অর্থবছর অনুযায়ী):

২০২৪-২৫: ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার (রেকর্ড)

২০২৩-২৪: ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার

২০২২-২৩: ২১.৬১ বিলিয়ন ডলার

২০২১-২২: ২১.০৩ বিলিয়ন ডলার

২০২০-২১: ২৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার পাশাপাশি আগামী দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা