পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এতিম শিশুদের মাঝে আনন্দ ও সহানুভূতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বিশেষ আয়োজন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ,মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার চকপুস্তম এলাকায় অবস্থিত একটি শিশু সদনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম,বিজিওএম শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক ও ঈদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। বিতরণকৃত উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল পোলাও চাল,সেমাই, তেলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ। এছাড়াও শিশুদের জন্য রঙিন খাতা,খেলনা ও নানান ছোট উপহারও রাখা হয়।
৫৯ বিজিবি জানিয়েছে, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে,এমন কার্যক্রম সমাজে শিশুদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহানুভূতি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া অনুষ্ঠানে বলেন,এতিমদের মুখে হাসি ফোটাতে পারা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসে,তবে কোনো শিশু নিজেকে অসহায় মনে করবে না। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং সুখের মুহূর্ত ভাগাভাগি করা।”উপহার পেয়ে এতিম শিশুরা আনন্দ প্রকাশ করে এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। শিশুরা নতুন পোশাক পড়ে আনন্দে ঝাঁপিয়ে পড়ে,আর খাদ্য সামগ্রী পেয়ে খুশি হয়। উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষিকারা জানান,এই ধরনের আয়োজন শিশুদের মনোবল ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। ৫৯ বিজিবি জানান, প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। তবে এবার আয়োজনটি বিশেষভাবে বৃহৎ আকারে করা হয়েছে যাতে সম্ভব হলে আরও বেশি শিশু উপকৃত হতে পারে। ব্যাটালিয়ন স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের উদ্যোগকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক ও সমাজসেবী ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ৫৯ বিজিবির উদ্যোগকে প্রশংসা করেন এবং বলেন, সমাজের এই ধরনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও আনন্দ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫৯ বিজিবি জানিয়েছে,শিশুদের জন্য যে খাদ্য ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে তা তাদের দৈনন্দিন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মানসম্মত। অনুষ্ঠান শেষে ব্যাটালিয়ন কর্মকর্তারা শিশুদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন সমস্যার প্রতি মনোযোগী হন এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও বলা হয়েছে,এই ধরনের উদ্যোগ কেবল শিশুদের জন্য নয়, বরং সমাজে ভালোচেষ্টা ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা বৃদ্ধি করে। ৫৯ বিজিবি ভবিষ্যতেও অসহায় শিশুদের জন্য নিয়মিত এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।


