এস এম আরজু, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তা ছিল আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বন্দর আমাদের জন্য আশীর্বাদ। বন্দরকে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। ইউএসএর আইএসপিএস টিম অডিট করে সন্তোষ জানিয়েছে। এবার কোনো অবজারভেশন ছিল না। উন্নত দেশের গ্রিন বন্দর পুরোপুরি অটোমেটেড। আমাদের কার্গো গ্রোথ ৭-১০ শতাংশ। ২০৩০ সালে ৫ মিলিয়ন টিইইউস হ্যান্ডেল করতে হবে। সিস্টেমের ভেতরে পরিবর্তন আনছি। ওভার ফ্লো ইয়ার্ড গড়ে তুলতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি ১৯টি অফডককে আরও কার্যকর করতে।’
বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) শহীদ মোঃ ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বে-টার্মিনালের বিষয়ে আগামী মাসেই একটা সুখবর পাওয়া যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বে টার্মিনাল হবে বাংলাদেশের গেম চেঞ্জার। ডিপিপি আগামী মাসের মাঝামাঝিতে অনুমোদন পাবে আশাকরি। ৫০০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করেছি। যত দ্রুত বে টার্মিনাল করতে পারবো ততই দেশের লাভ।’
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, কাস্টমসের সঙ্গে আমদানি ক্ষেত্রে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের বিপজ্জনক কার্গো অপসারণ করেছি। ১২০টি রেফার (শীততাপ নিয়ন্ত্রিত) কনটেইনার নয় মাস প্লাগ ছিল, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। বিদেশি মেইন লাইন অপারেটর ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এ ধরনের কাজ গত ১০-১৫ বছরে হয়নি। সেটা ৩-৪ মাসে করতে পেরেছি। ১০ হাজার নিলামযোগ্য কনটেইনার পড়ে আছে। ইনভেন্ট্রি হচ্ছে। এ জায়গা খালি হলে ৪-৫ বছর চলবে।
স্বার্থে যা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এর সুফল দেশবাসী পাবে। আমাকে নিয়ে রিপোর্ট করলে দেশের ভেতর থাকবে। কিন্তু বন্দরের নেতিবাচক খবর সারা বিশ্বে পৌঁছে যায়। বন্দরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বন্দর সীমায় ছোটখাটো চুরিও যাতে না হয় সেই উদ্যোগ নিয়েছে। গাড়ির চেসিসের সঙ্গে লুকিয়ে ঢুকেছিল, সেটিও ধরা পড়েছে। কোনো সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারে। সিকিউরিটি সিস্টেমে মাল্টিপল ম্যাজার নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য লোড করার পর ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্দর সীমায় অলস বসে থাকতে পারবে না। রেলের ইঞ্জিনের সংকট রয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ির স্থানীয় কর্মবিরতির কারণেও সমস্যা হয়েছে। পানগাঁওতে জাহাজের ভাড়া নির্ধারিত ছিল। আমরা মনে করি ভাড়া নির্ধারণ করবে বাজার। তাই আমরা ভাড়া উন্মুক্ত করে দিয়েছি। পৃথিবীর অনেক ভালো কোম্পানি পানগাঁও নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্যবসাবান্ধব, প্রতিযোগিতামূলক বন্দর করতে আমরা পিছপা হচ্ছি না।


