সর্বশেষ

২০২৫ সালে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভে স্বস্তির ইঙ্গিত

ডিসিভি নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার, যা প্রায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সমান। চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ।

মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল, জুলাই: ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্ট: ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর: ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবর: ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বর: ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, ডিসেম্বর: ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল গত বছরের মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, যখন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি ব্যয় মেটাতে প্রবাসীদের মধ্যে দেশে বেশি অর্থ পাঠানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাবও হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশে আসছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক লেনদেনে আরও স্থিতিশীলতা আসবে।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা