মহররম ইসলামের অন্যতম পবিত্র মাস এবং চান্দ্র হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। মুসলিম বিশ্বের কাছে এই মাসটি গভীর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। রমজানের পর মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ সময় হিসেবে মহররমকে গণ্য করা হয়। বিশেষ করে এ মাসের ১০ তারিখ, যেটি ‘আশুরা’ নামে পরিচিত, তা রোজা, ইবাদত এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।
আশুরার দিনে রোজা রাখার ফজিলত হাদিসে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।” (সুনানে নাসায়ি: ১৬১৩)। আরেক হাদিসে হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, “আশা করি, আল্লাহ তায়ালা আশুরার রোজার বিনিময়ে পূর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন।” (তিরমিজি: ৭৫২)।
মহররম মাস কেবল রোজা বা ইবাদতের ফজিলতের জন্য নয়, এটি ইসলামের ইতিহাসেও এক তাৎপর্যপূর্ণ মাস। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা হয় এই মাসেই। ‘মহররম’ শব্দটি এসেছে ‘হারাম’ শব্দ থেকে, যার অর্থ নিষিদ্ধ বা পবিত্র। এই মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল, যেন মুসলমানরা নিরাপদে হজ পালন করতে পারেন।
মহররমের ১০ তারিখ স্মরণ করিয়ে দেয় কারবালার করুণ যুদ্ধ, যেখানে ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে রাসুল (সা.)-এর প্রিয় নাতি ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তার সঙ্গীরা ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে শহিদ হন। এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সত্য ও আদর্শের সংগ্রাম। ইমাম হুসাইন (রা.) বলেন, “যখনই তোমরা সতেজ পানি পান করবে, আমাকে স্মরণ করো।”
কারবালার এই আত্মত্যাগ বিশ্ব মুসলিমকে মানবতা, সহানুভূতি ও ন্যায়ের পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগায়। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের জাগরণ ঘটায়।
মহররম মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় আত্মশুদ্ধি, আত্মত্যাগ এবং ন্যায়বিচারের শিক্ষা। এটি মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশীলন ও নৈতিক চেতনাকে জাগ্রত করে। আশুরার রোজা, দোয়া, দান-সদকা এবং কারবালার শহিদদের স্মরণে এ মাসটি ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।


