বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মাঝেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে ৩০টি জ্বালানিবাহী জাহাজ। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, যা সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম গণমাধ্যম কে বলেন, ‘গত এক মাসে ৩০টি জাহাজ জ্বালানি নিয়ে বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে ২৭টি ইতোমধ্যে খালাস করে চলে গেছে। বর্তমানে দুটি জাহাজ থেকে খালাস চলছে। ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ আসবে, যার মধ্যে এলএনজি, গ্যাস অয়েল ও এলপিজি রয়েছে।’
এলএনজি, এলপিজি, গ্যাস অয়েল ও হাই সালফার ফুয়েল রয়েছে। কাতার, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ওমান, ভারত ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব জ্বালানি এসেছে। ফলে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহে এখনো বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
তবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে বর্তমানে মজুত আছে মাত্র ৪০ হাজার টন ক্রুড, যা দিয়ে চলবে সর্বোচ্চ ১০–১২ দিন। প্রতিদিন প্রায় ৩৮০০ টন তেল পরিশোধন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি এক লাখ টন ক্রুড তেল পেয়েছি। বর্তমানে প্রতিদিন ৩৮০০ থেকে ৪ হাজার টন পরিশোধন চলছে। কিন্তু কারখানায় এখন অপরিশোধিত তেলের সংকট রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন তেলবাহী একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে। আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা আরেকটি চালানও স্থগিত হয়েছে। নতুন করে এপ্রিলের শেষ দিকে একটি চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের পর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক বাজারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য সীমিতভাবে এই পথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগেই যাত্রা করা জাহাজগুলো দেশে পৌঁছানোয় আপাতত বড় সংকট তৈরি হয়নি। তবে নতুন করে ক্রুড অয়েলের সরবরাহ ব্যাহত হলে সামনে চাপ বাড়তে পারে।
বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর একটি অংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হয়, আর বাকি অংশ সরাসরি পরিশোধিত অবস্থায় বিদেশ থেকে আনা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও, ক্রুড অয়েলের অনিশ্চয়তা জ্বালানি খাতে নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।


