সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে এ মামলার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মোঃ শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল হোসেন, কনস্টেবল মুকুল পলাতক রয়েছেন সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আরও আটজন। তাদের হাজির না হওয়ায় আদালত সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস ওই ঘটনায় একজন তখনও জীবিত ছিলেন, কিন্তু তাকেও পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়। ২০২৫ সালের ২ জুলাই প্রসিকিউশন আদালতে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগপত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয় ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ।
বিচারকার্যের শুরুতে আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর উপস্থিত আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


