নিজ হাতে রাস্তা পরিষ্কার করে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এমপি ফজলুর রহমান সাঈদ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সকালে জয়পুরহাট শহরের পূর্ব বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি ঝাড়ু হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে কাজ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জয়পুরহাট-১ (সদর–পাঁচবিবি) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ এদিন কর্মসূচির সূচনা করেন ভোরের আলো ফোটার আগেই। সড়কে জমে থাকা ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করে তিনি দেখান, পরিচ্ছন্নতার কাজ শুধু সরকারি কর্মচারী বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; বরং এটি নাগরিক সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার এ ধরনের কাজ স্থানীয়দের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী হাসিবুল আলম লিটন, শহর জামায়াতের আমির মাও: সাইদুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মর্তুজাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তাদের উপস্থিতি কর্মসূচিকে আরও সংগঠিত ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন, যা এই উদ্যোগকে একটি গণআন্দোলনে রূপ দেয়।
সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাও দূর করার প্রত্যয় রয়েছে তাদের।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী হাসিবুল আলম লিটন বলেন, জয়পুরহাটকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
শহর জামায়াতের আমীর মাও: সাইদুর রহমান জানান, সড়কে জমে থাকা ময়লা দেখে সংসদ সদস্য নিজেই ঝাড়ু হাতে নেন, যা উপস্থিত সবার মাঝে অনুপ্রেরণা জোগায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, একজন সংসদ সদস্যের এমন কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ সচরাচর দেখা যায় না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সবাই নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখতে আরও দায়িত্বশীল হবেন।
পথচারী আরিফুল ইসলামও মনে করেন, এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।
সামগ্রিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুধু একটি প্রতীকী উদ্যোগ নয় বরং জনপ্রতিনিধির জনসম্পৃক্ততার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি যখন মাঠে নেমে কাজ করেন তখন তা জনসাধারণের সঙ্গে দূরত্ব কমায় এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের ধারণাকে শক্তিশালী করে। জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি সেই বার্তাই নতুনভাবে তুলে ধরেছে।


